Saturday, 31 October 2020

ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

 

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছর মেয়াদি কোর্সে পড়ার সময় মার্ক ট্যুর এর একটা সুযােগ পাওয়া গেল। এটা। হমদের জন্য মহা আনন্দের বিষয়।। আমাদের ট্যুর ছিল ভারতে। তাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসে করে আমরা যশােরের বেনাপােলে পৌঁছি। তখন | সকাল, আমরা বাংলাদেশের বর্ডার ক্রশ করলাম। বিদেশের মাটিকে এই প্রথম পা রাখা। মনের মধ্যে এক অন্যরকম
অনুভূতি কাজ করছে। ইন্ডিয়ান অফিসের নানান নিয়মকানুন পার করে বিকেল দুইটা নাগাদে কলকাতা শহরে প্রবেশ | করি। কলকাতা ভারতের এক পুরানাে শহর। কিন্তু কলকতা আর ঢাকার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য আছে বলে মনে হলাে
না। দুইদিন কলকাতায় থাকলাম। দেখলাম অনেক কিছুই। সবচেয়ে ভালাে লাগলাে বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া সায়েন্স সিটি, ইভালুয়েশন পার্ক, ভিক্টোরিয়া পার্ক, পার্ক স্ট্রিট, রবি ঠাকুরের শান্তি নিকেতন দেখার মতাে। দুইদিন পর দিল্লির টিকেট না পেয়ে দার্জিলিং-এর ট্রেনে চড়লাম। পরে নিউজলপাইগুড়ি জংশন থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা জিপে করে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ধরে চলার পর দার্জিলিং হােটেলের কাছে এসে পৌঁছলাম। এখানে পানির বড় সমস্যা। প্রত্যেকদিন শেষ রাতে ঝিরঝির বৃষ্টি শুরু হয়ে দুপুরের দিকে একটু কমে আসে। আর বিকেলের আকাশে - দেখা দেয় সাদা মেঘ। আমাদের হােটেলটা মেঘের অনেক ওপরে। | পরদিন খুব ভােরে ট্রেন আজমীর জংশনে এসে থামল। আজমীর শরীফে মাজার জিয়ারতের পর বাসযােগে পৌছলাম জয়পুর।
শুনলাম অনেক গরম এখানে। শরীর নাকি পুড়ে যায়। কিন্তু আমরা যাওয়ার সাথে সাথে এত বৃষ্টি শুরু হয়, যা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিল। জলমহল, হাওয়াভবন, আর ফোর্ট, রাজমন্দির এসব দর্শনীয় স্থান দেখে মন ভরে গেল। ওই দিন রাতেই বাসযােগে আগ্রায় পৌঁছলাম। সেখানে শুধু দিনটক কাটাবার জন্য একটা হােটেল বুক করলাম। আগ্রার বিখ্যাত তাজমহল দেখে ইতিহাসের কথা মনে পড়ে গেল। মােঘল সম্রাট শাহজাহান ত্রীর প্রেমের নিদর্শন হিসেবে এই জগৎখ্যাত তাজমহল তৈরি করেন। শ্বেত পাথরে তৈরি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত এ তাজমহলের রূপ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। অতঃপর ঐতিহাসিক আগ্রাফোর্ট পরিদর্শন করে দিল্লির বাসে ওঠে পড়লাম। রাত দশটায় বাস দিল্লিতে
পৌছে। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে পুরাতন জামে মসজিদ এলাকায় যেতে আরও একঘণ্টা। আর সবাইকে হােটেলের | রুম—বুঝিয়ে আমার রুমে আসতে দুইটা বেজে গিয়েছিল। এর দুইদিন পর কলকাতায় পৌছলাম। পরে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের বাতাস গায়ে লাগতেই চোখে জল এসে গেল। মাত্র পনের দিন দেশের বাইরে থেকে মনে হলাে কত বছরই না দেশের বাইরে ছিলাম! —মতিন রায়হান

No comments:

Post a Comment

ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

  শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছর মেয়াদি কোর্সে পড়ার সময় মার্ক ট্যুর এর একটা সুযােগ পাওয়া গেল। এটা। হমদের জন্য মহা আনন্দের বিষয...